Saturday, March 14, 2009

আইজকা মনডা খুব ভালা

আজকে মনটা বিশাল ভালো। কাহিনীটা তাইলে খুইলা কই ।

গাজীপুর থেইকা ফিরসি পরে থেইকা মনডা বিশাল উদাস ছিল। কিরাম কিরাম জানি লাগতাছিল। তো গত পরশু দিনকা গেছি ক্লাবে খেলাইতে। খেলতাচছি এইরাম সময় একটা অপরিচিত নম্বার থেইকা ফোন। ধরলাম। ধইরা দেখি এক বড় ভাই । কইল কাইলকা ফ্রি থাকলে একটু দেখা কইর। আমি কইলাম উখে ভাই।

কাইলকা (শনিবার) সকালে ক্লাস। ঘুম ভাঙ্গলো ১১টায় সকালের ক্লাস মিস। কি আর করা। আস্তে ধীরে দাঁত মাজা শেষ কইরা কাপড় পরলাম। ছাত্র আছে। বাইর হইলাম। কিন্তু মন বড় উদাস। কতক্ষন ঘুরাঘুরি কইরা গেলাম নিরব হোটেলে। দুপুরে সেইখানে খাইলাম। আরো কতক্ষন ঘুইরা পরে ফিরলাম বাসায়। ব্যাগটা রাইখা আবার বাইর হইলাম ভাইয়ের লগে দেখা করতে যামু।

আড্ডা মাইরা কাম সাইরা গেলাম দেখা করতে। ভাই ডাকছিল গুলশান ২ নংয়ের অইখানে এফ এফ সি তে। গেলাম । গিয়া দেখি লগে ভাবী। ভাই কইল বস। বইলাম। তখন উনি কইল তুমি তো ল’ পড় আমারে একটু বুদ্ধি দেও। সমস্যা জিগাইলাম। কইল। শুইনা কইলাম কাগজ দেন। দেখলাম কাগজ। দেইখা সমস্যার সমাধান দিলাম। এর মাঝে ডিনার অর্ডারও দিয়া আসছে ভাইয়া। উনারে বুদ্ধি দিলাম পরে খাইলাম। খাওয়া শেষ করার পরে ভাই কইল তুমি পড়া শেষ করলে অনেক বড় ল’ইয়ার হইবা। এখনি যেম্নে পেজগী লাগানি বুদ্ধি দিছো আর সমস্যার সমাধান কইলা তোমার সামনে অনেক বড় রাস্তা অপেক্ষা করতেছে। ভাইয়েরকতথা শুইনা লজ্জা পাইলাম। পরে ভাই আমারে ফিস হিসাবে ৫০০ টেকা দিল। কইল ” এইটা তোমার পরামর্শের ফিস।”

মনটা খুশী হইতে লাফ দিল। প্রফশনের হিসাবে প্রথম টেকা কামাইলাম। পরে ফিরার সময় বাসায় লাইগা মিষ্টি কিনলাম। কিনা বাসায় ফিরা সবাইরে মিষ্টি খাওয়াইলাম। এরপরে বাকি যেই কয় টেকা ছিল মার কাছে দিলাম যে রাখো আমার পয়লা উকালতির রোজগার দোয়া কইরো যাতে অনেক বড় উলিক হইতারি। আহ বাপ মার এই রাম খুশী মুখ। আমার কারনে। সেইটাই মনটারে পুরা ভরাইয়া দিলো। সারা জীবনে তো কম কষ্ট দেই নাই ।

Friday, March 13, 2009

ফিরে গেলাম সেই অতীতে।

গত দুইদিন ব্লগে ছিলাম না। গাজীপুর গিয়েছিলাম। ঘুরে এলাম। নিজের ফেলে আসা অতীতের সাথে যেনো কাটিয়ে এলাম দু'টি দিন।

সন্ধ্যায় পৌছানোর সাথে সাথেই ফোন দিলাম ছেলেবেলার বন্ধুদের। ব্যাগটা ঘরে রেখেই সাথে সাথেই বের হয়ে গেলাম । বাবা পিছন থেকে চিৎকার করে ডাকল " ব্যাগ রেখেই কই যাও?"

কে শোনে? বাবাকে বললাম আসছি । বলেই একটা দৌড়। চলে গেলাম মামুনের দোকানের সামনে। সেখানে রাসেল রিপন মামুন মামুন-২ সহ সবাই ছিল।

বিড়ি কিনে সবাই হাটা দিলাম পুরানো আড্ডার জায়গা " বাইনা ভিটা " বিড়ি সহযোগে আড্ডা চললো রাতে ১১ টা পর্যন্ত। এর পরে বাবার ফোনে বাসায় ফিরলাম। ফিরে দেখি এরি মাঝে বাবা রান্না বান্নাও করে ফেলেছে। কেউ থাকি না আমরা এখানে তাই আসলে যা করার নিজেরই করে নিতে হয়। খেয়ে দেয়ে শুতে গেলাম সেই পরিচিত পুরানো বিছানায় । সেই পুরানো বালিশটা যেন আমাকে ডাকছিল। মনে হল কালকে রাতেই না এখান থেকে উঠে গেলাম। নিজেকে মনে হচ্ছিল সেই সদ্য ক্লাস টেনে ঊঠা সেই ছেলেটা যে হোষ্টেল থেকে ছুটিতে এসেছে বাড়িতে । বিছানায় শোওয়া মাত্র মনে হলো আমি ঘুমিয়ে ছিলাম মাত্র জেগে উঠেছি। ঘুম ভেঙ্গে গেছে কোন অজানা কারনে। ইশ!!!!!!! আসলেই যদি এমনটা হত। যাও বা মনে মনে এমন লাগছিল সেটাও ভেঙ্গে দিলো শালার মোবাইল। ২ মিনিট কথা বলে রেখে দিলাম। ঘুমানোর সময় মনে হচ্ছিল আহ যদি আসলেই ঘুম থেকে উঠে দেখি যে পুরাটাই স্বপ্ন। আমার একটু পরে স্কুলে যেতে হবে।

সকালে ঘুম ভাঙ্গল বাবার ডাকে । এতো ভোরে শেষ কবে উঠেছি মনে নেই । আসলেই মনে হচ্ছিল আমার এখন স্কুলে যাওয়া লাগবে। কিন্তু দুই মিনিট পরে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে উঠে পড়লাম। দাত মেজে এলাম। নাস্তা করে বাড়ি ঘুরতে লাগলাম । আর প্রতিটা মুহুর্তে ফিরে ফিরে যাচ্ছিলাম আমার ফেলে আসা শৈশব , ফেলে আসা কৈশরে। আমার পুরানো বই এর সংগ্রহের সামনে দাঁড়িয়ে মনে করার চেষ্টা করলাম কি কি বই আছে শেলফে। এর পরে শো কেসের সামনে দাঁড়িয়ে বাবা মার ক্রেস্টগুলো দেখতে দেখতে চোখ গেল কিছু মেডেলের দিকে। আমার কষ্টার্জিত মেডেলের ক্ষুদ্র এক অংশ যার বেশীর ভাগই চুরি গিয়েছে।

এর পরে আবার বের হলাম বন্ধুদের সাথে আড্ডা জমালাম। দুপুরে বাসায় ফিরে খেয়ে আবার বের হলাম বিকালে পুরা দুনিয়া ঘুরলাম যেমন ঘুরতাম আমার ফেলে আসা দিনগুলোতে। অবাক হয়ে লক্ষ করলাম এখন রাস্তার ধারের অনেকেই আমারমত অধমকে মনে রেখেছে , চিনতে পারছে। ভাল লাগলো । এর পরে ফিরে একটু ক্রিকেট খেললাম। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে হাত মুখ ধুয়ে আবার বের হলাম আড্ডা মারার ইচ্ছে নিয়ে।

এই রুটিনেই চললো দুই দিন। অবশেষে আজকে ফিরে এলাম আবার সেই যান্ত্রিক জীবনে।






আমার বাবার কিছু ক্রেস্ট - ১, আমার ছোটবেলার লাইব্রেরী, আমার বাবার কিছু ক্রেস্ট - ২ (১টি মার), আমার কিছু মেডেল-১, আমার কিছু মেডেল-২, আমার কিছু মেডেল-৩.